NewSmSBD.ComLogin Sign Up

অবহেলায় পড়ে আছে রাবির কৃষি গবেষণা ও প্রজনন কেন্দ্র

In পড়াশোনা নিউজ - 2017-12-07 02:11 pm - Views : 32
অবহেলায় পড়ে আছে রাবির কৃষি গবেষণা ও প্রজনন কেন্দ্র

নেই জায়গার সংকট, প্রয়োজনীয় গবেষণাগারসহ উপকরণের অভাবও খুব একটা নেই। প্রয়োজন শুধু যথাযথ ব্যবস্থা এবং উন্নত প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি অনুষদের অর্ন্তভূক্ত ভেটেনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগের ব্যবহারিক যত কাজকর্ম বা গবেষণা আছে সবই হয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিচ্ছিন্ন পরিবেশে। মূল ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে জেলার পবা থানায় অবস্থিত ১৩একর জায়গাটি আগে ছিল রাজশাহী কৃষি

কলেজ।পরে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তিতে পরিণত হয়ে ২০০৪ সাল থেকে কৃষি অনুষদভূক্ত ভেটেনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থীদের কৃষি গবেষণা ও প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে চালু হয়। ক্যাম্পাস থেকে একটু দূরে হওয়ায় রয়েছে অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, ক্লিনিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অভাব, জনবলের অভাব, অপর্যাপ্ত বাস ট্রিপ, এবং ক্যাম্পাসে স্থানীয়দের অবাদ চলাফেরার ফলে সরঞ্চামাদি চুরি হওয়ার আশঙ্কা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য সরু ভাঙা রাস্তা ব্যবহার করা লাগে। ভাঙা রাস্তা হওয়ায় যাতায়াত খুবই ঝুকিপূর্ণ। অথচ খড়খড়ি বাইপাস রোড থেকে বামে ক্যাম্পাসে আসার জন্য জমি কেনা থাকলেও রাস্তা সংস্কারের অভাবে বাস এদিক দিয়ে আসতে পারে না। বাসের ট্রিপ কম থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে গিয়ে গবেষণা করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে।আগে দুটি বাসের ট্রিপ থাকলেও এখন একটিমাত্র বাস মাত্র একবার করে ছেড়ে আসে।

এ বিষয়ে বিভাগের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন,“ক্লিনিকের অবস্থা মোটেও ভালো নয়। যাতায়াতের জন্য একটি মাত্র বাস দেওয়া হয় শুধু মাত্র শিক্ষার্থীদের জন্য।বাসে করে নিয়ে গেলেও আমাদের গবেষণা শেষ হওয়ার পূর্বেই বাস ফিরে আসে,ফলে আমাদের ভোগান্তিতে পরতে হয়।

বিভাগের আরেকজন শিক্ষার্থী আরোও বলেন,“বর্ষায় কৃষকেরা যেভাবে কাঁদামাটি পার হয়ে ক্যাম্পাসে আসা যাওয়া করে আমরাও সেভাবে যাতায়াত করি।ফলে আমাদের প্রজনন কেন্দ্রে গিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছা হয় না।অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেতে হয়”।

এছাড়া ক্যাম্পাসের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় স্থানীয় লোকজনের অবাধ চলাফেরার ফলে রয়েছে ক্যাম্পাসের সরঞ্চামাদি চুরি হওয়ার আশঙ্কা। শুরু থেকে স্থানীয়দের প্রভাবে ৫০০টি নারকেল গাছ উধাও হয়ে গেছে।

নিরাপত্তার ব্যাপারে জানতে চাইলে সেখানে দায়িত্বরত ইনচার্জ ডা.হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ বলেন,‘সরঞ্ছামাদি এখন চুরি হচ্ছেনা ঠিক আছে কিন্তু ভবিষ্যতে যে হবে না তার কি নিশ্চয়তা আছে। প্রশাসন একটু সুদৃষ্টি দিলেই এর নিরাপত্তার ব্যবস্থা হতে পারে’।

এছাড়া রয়েছে পর্যাপ্ত জনবলের অভাব। বর্তমানে ৪জন ফার্মাটেনডেন্ট এবং ৩জন মাত্র গার্ড রয়েছে। রয়েছে ১জন মাত্র ক্লিনার। ক্যাম্পাসে কর্মরত শিক্ষকদের সহায়তার জন্য একজন লোক থাকার দরকার।সহায়তাকারী না থাকায় ক্লিনারকে দিয়েই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সেবামূলক কাজ করাতে হয়।যদিও সেখানে অনেকগুলো পদ ফাকা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে একজন গার্ড বলেন, “৪ জন প্রহরী থাকার কথা। গত ৬বছর আগে একজন প্রহরী মারা গেলেও এখন পর্যন্ত পোস্টটি ফাকা রয়েছে।প্রহরী কম থাকায় আমাদের উপরেই সব চাপ পড়ছে”।

এদিকে,শিক্ষার্থীদের উন্নত গবেষণা ও চাষের জন্য জায়গাটিতে বরাদ্দ আছে ব্রডার হাউজ,ডেইরী ফার্ম,পোল্ট্রি ফার্ম ও গোট হাউজ। অথচ ফার্ম ঘরগুলো অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বাস্তবে এসবের ব্যবহার হচ্ছে খুব কম।৩/৪টি গরু আর কিছু ছাগল,ভেড়া থাকলেও তা জায়গার তুলনায় খুব কম।
জায়গাটিতে স্থানীয়দের পশুপাখির চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য রয়েছে ক্লিনিক।ক্লিনিকে পুরাতন সরঞ্ছামাদির মধ্যে ররেছে এক্স-রে মেশিন, অপারেশন থিয়েটার,গাইনোলোজি ল্যাব,ডিসপেনসারি। এসব যন্ত্রপাতি থাকলেও প্রয়োজন উন্নত ল্যাবরেটরির ব্যবস্থা, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং কয়েকজন ডাক্তার নিয়োগ।

এসব সমস্যা সম্পর্কে ভেটেনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগের সভাপতি ড.এস.এম কামরুজ্জামান বলেন, “উন্নতমানের ক্লিনিকের জন্য আমাদের ১০-১২টি ল্যাব প্রয়োজন।ক্লিনিকের জন্য অতিরিক্ত কোন বরাদ্দ দেওয়া হয় না, বিভাগীয় যে বরাদ্দ আছে সেখান থেকেই অর্থ নিয়ে ক্লিনিক পরিচালনা করা হয়।যার জন্য বিভিন্ন ফার্মের পশু ক্রয় করা সম্ভব হয় না।একটি মাত্র পরিবহন ক্লিনিক এর জন্য বরাদ্দ,ফলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে”।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, দায়িত্বরত ইনচার্জ ডা.হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ বলেন, ‘অনেক বেকার ও স্বল্প পুঁজির লোক এখান থেকে পরামর্শ নিয়ে পশুপালন করে সাবলম্বিসহ উদ্যোক্তা হচ্ছে। হাস, মুরগি, ভেড়া, ছাগল ও পল্ট্রি চাষের উপায় ও চিকিৎসা সম্পর্কে আমরা তাদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক কাজকর্ম ও গবেষণার জন্য উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ হাসপাতালের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দরকার। উন্নত ল্যাবরেটরির ব্যবস্থা, আধুনিক যন্ত্রপাতি, আরোও কয়েকজন ডাক্তার, ফার্মাটেনডেন্ট ও কর্মচারী থাকলে প্রজনন কেন্দ্রটির সঠিক ব্যবহার হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে,বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড.আনন্দ কুমার সাহা বলেন, “দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মূল ক্যাম্পাসের বাইরে এরকম জায়গা চালু আছে। তারা ক্লাশ ও গবেষণা চালাচ্ছে। তবে শিক্ষকদের উদাসীনতার কারনে শিক্ষার্থীরা গবেষণার কাজে আগ্রহ প্রকাশ করছে না। ভেটেনারি ক্লিনিক নিয়ে কিছু পরিকল্পনা আছে। তবে বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে”।

Googleplus Pint
Oporna Sharmin
Posts 20
Post Views 374